ভারতের জাতীয়তাবাদে উন্মেষে বিবেকানন্দের রচিত বর্তমান ভারত গ্রন্থটির অবদান ব্যাখ্যা কর
![]() |
প্রশ্ন - ভারতের জাতীয়তাবাদের উন্মেষে বিবেকানন্দের রচিত 'বর্তমান ভারত' গ্রন্থটির অবদান ব্যাখা করো।
অথবা,গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর কীভাবে তাঁর অঙ্কিত ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক সমাজচিত্র তুলে ধরেন?
উত্তর-প্রথম অংশ : জাতীয়তাবাদ উন্মেষে 'বর্তমান ভারত-এর ভূমিকা : স্বামী বিবেকানন্দ প্রকাশ্য রাজনীতি না-করলেও তাঁর বিভিন্ন রচনার মাধ্যমে প্রাচ্যের ও পাশ্চাত্যের শ্রেষ্ঠ ভাবধারার সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী নবভারত গঠনের আদর্শ প্রচার করেন। তার রচনাবলির মধ্যে 'বর্তমান ভারত' গ্রন্থটি উল্লেখযোগ্য যা ভারতে জাতীয়তাবাদ বিকাশে সহায়ক হয়েছিল।
[১] স্বদেশচেতনা : “ভারতবাসী আমার ভাই, ভারতবাসী আমার প্রাণ, ভারতের দেবদেবী আমার ঈশ্বর, ভারতের মৃত্তিকা আমার শিশুশয্যা, আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী—বল ভাই ভারতের মৃত্তিকা আমার স্বর্গ, ভারতের কল্যাণ আমার কল্যাণ”— 'বর্তমান ভারত' প্রবন্ধে এই উক্তির মাধ্যমে বিবেকানন্দ দেশবাসীর মধ্যে স্বদেশচেতনা ও দেশপ্রেম করতে চেয়েছিলেন।
२ সামাজিক সংহতি : সমাজের অস্পৃশ্যতা ও জাতিভেদ নিরসনের জন্য বিবেকানন্দ 'বর্তমান ভারত'-এ বলেছেন,
... ভুলিও না নীচ জাতি, মুখ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি-মেঘর তোমার রক্ত তোমার ভাই।"
৩]দেশের জন্য : 'বর্তমান ভারত
দেশবাসীকে দেশের জন্য আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ বলেছেন, “হে ভারত ভুলিও না- তুমি জন্ম হইতেই তুমি মায়ের জন্য বলি পদত্ত ভুলিও না তোমার সমাজের বিরাট মহামায়ার ছায় মাত্র। হে বীর সাহস অবলম্বন করো সদর্পে বল -আমি ভারতবাসী ভারতবাসী আমার ভাই।
৪.দেশপ্রেমের সম্ভার: বিবেকানন্দ ভারত দেশকে মাতৃরূপে কল্পনা করে তা আত্মোৎসর্গের আদর্শ তুলে ধবেছিলেন- তাতে কেউই বাদ পড়েনি। তার প্রেরণাতেই দেশপ্রেম হয়ে উঠেছিল। তার আদর্শ ও চিন্তাধারার ছাপ পরবর্তীকালে জাতীয় আন্দোলনে ছাপ ফেলেছিল।
দ্বিতীয় অংশ দেবেন্দ্রনাথের বাজচিত্রে ঔপনিবেশিক গ্রহণ সমাজচিত্র - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠভ্রাতা গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর সমকালীন সমাজ ও সময়ের ছবিকে তুলির টানে ব্যঙ্গাত্মক রুপে কৃষ্টির তোলেন।
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'প্রবাসী' ও 'মডার্ন রিভিউ' পত্রিকার সত্যনেন্দ্রনাথের অঙ্কিত ব্যঙ্গচিত্রগুলি প্রকাশিত হত।
তার বাচনগুলিতে ফুটে ওঠা সমাজচিত্র হল-
১. বিদেশি শাসনের সমালোচনা : তাঁর ব্যঙ্গচিত্রে বিদেশি শাসকদের কটাক্ষ করা হয়, একইভাবে 'পুচ্ছ পরিবর্তন', ‘পুরাতন ও নতুন, সংকর জাতের বাঙালি", "বিধবার একাদশী' 'ব্রাহ্মণের একাদশী' নামক বাজচিরে সমাজের নানা অসংগতি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিমায় তুলে ধরেন।
২.মানবচরিত্র : উপনিবেশিক শাসকদের কাছে মাথা নোয়ানো মানুষ বা শহরে জীবনের কৃত্রিম সাহেবিয়ানা-যে-কোনো কিছুকেই তিনি বিদ্ধ করতেন তার কাটুন চিত্রে গগনেন্দ্রনাথ কোনো প্রকার তোষামোদে বিশ্বাস করতেন না। তাই তাঁর বাষ্পচিত্র হয়ে উঠেছিল ঔপনিবেশিক সমাজের সমালোচনার প্রতিফলন।
৩] দেশীয় মন্ত্রীধীদের চিত্র : তাঁর বালচিত্রগুলিতে বিদেশি শাসকদের পাশাপাশি দেশীয় নেতারাও ব্যাশের আওতার মধ্যে পড়েছেন। এমনকি, রবীন্দ্রনাথও তার ব্যঙ্গচিত্রে বিষয় হয়েছেন।
বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর আবিষ্কার, প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের গবেষণা,।রবীন্দ্রনাথের প্রথম বিমান চড়া, রাষ্ট্রগুরু সুরেনাথের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ ইত্যাদি নিয়ে কার্টুন চিত্রগুলি ইতিহাসের অমূল্য দলিল হয়ে আছে ।